
আমার নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, বর্তমান সংসদ সদস্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর মিছিলে প্রকাশ্যে শটগান নিয়ে মহড়া দেয়া ব্যক্তির সেই অস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ নভেম্বর) রাতে অস্ত্রটি জব্দ করা হয় বলে সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ।
তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা অস্ত্রটি জব্দ করেছি। ফাঁড়ির ইনচার্জ অস্ত্রটি জব্দ করে এনে থানায় জমা দিয়েছে। ডিসি স্যার বরাবর এটির পাঠিয়ে প্রতিবেদন দিবো।
অস্ত্রটি বৈধ কিনা এবং অস্ত্রধারী ব্যক্তির পরিচয় কি জানতে চাইলে ওসি সায়েদ বলেন, আমি তো সেখানে ছিলাম না। আর লোকটার নামও জানি না। শুনেছি সে কলি নামে স্থানীয় একজন ব্যবসায়ীর বেতনভুক্ত কর্মচারী। অস্ত্রটি বহনকারী ব্যক্তির নিজের নামে লাইসেন্স করা। নিজের বৈধ অস্ত্র তিনি নিজেই মিছিলে বহন করেছেন।
তবে মিছিলে অংশগ্রহণকারী ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় এলাকাবাসী বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, অস্ত্রধারী ওই ব্যক্তির নাম জামান। তিনি রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল কলি’র বেতনভুক্ত গানম্যান বা বডিগার্ড। ওই মিছিলে কলি উপস্থিত ছিলেন। তাই তার গানম্যান জামানও তার সঙ্গে মিছিলে আসে।
এর আগে বুধবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার ফয়সাল হকের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক। তিনি উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার কিছুক্ষণ আগে দলোয় শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থক এলাকায় মিছিল করে শোডাউন করেন। মিছিলটি উপজেলা কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে যেতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মিছিলের একেবারে অগ্রভাগে সবার সামনে লাল রঙের গেঞ্জি ও কালো রঙের প্যান্ট পড়া অস্ত্রধারী এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়। তিনি কাধে শটগান ঝুলিয়ে মিছিলের সামনে অবস্থান নিয়ে বেশ কিছু দূরত্ব রেখে হাঁটতে থাকেন। তার আচরণ দেখে মনে হয় তিনি মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এসময় তিনি মন্ত্রীর বডিগার্ড কিনা জানতে চাইলে সময় সংবাদকে ওই অস্ত্রধারী ব্যক্তি বলেন, ‘আমি অন্য একজনের চাকরি ও ডিউটি করি। মিছিলে আমার স্যার আছে।’
তিনি স্যারের সঙ্গে না থেকে মিছিলের সবার সামনে কেন মহড়া দিচ্ছেন এই প্রশ্ন করলে ওই ব্যক্তি কোনো জবাব না দিয়ে দ্রুত মিছিলের ভেতরে ঢুকে পড়েন।
তবে ওই অস্ত্রধারী ব্যক্তি তার স্যারের নাম বা নিজের নাম না বলেই মিছিলের ভেতরে ঢুকে সবার সঙ্গে মিশে গিয়ে সামনের দিকে হাঁটা শুরু করেন।
গণমাধ্যমে ধরা পড়ে সেই অস্ত্রধারী ব্যক্তির মহড়া দেবার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অবস্থান নেয়ার পুরো দৃশ্য। এসময় অন্যান্য সাংবাদিকরা ওই অস্ত্রধারী ব্যক্তির ছবি তুলতে গেলে তিনি এক পর্যায়ে মিছিল থেকে বের হয়ে পালিয়ে যান।
রাতে এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল কলি’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে আমার নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন, এর আগে আমি মেয়র নির্বাচন করার ঘোষণা দিলে আমার ওপর তিন বার হামলা হয়। আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তাই আমার জীবনের নিরাপত্তার জন্য আমি সরকারের কাছে গানম্যান চেয়ে আবেদন করি। তার প্রেক্ষিতে জামান আমার বডিগার্ড হিসেবে চাকরি করছে। সে আমার বেতনভুক্ত কর্মচারী। তবে অস্ত্রটি তার নিজের নামে লাইসেন্স করা। তার বৈধ অস্ত্রই সে বহন করেছে। আমি তাকে বলেছিলাম অস্ত্রটি গাড়িতে রাখতে। তবে মিছিলে এভাবে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করার নিয়ম নেই সে এটা বুঝতে পারেনি। বোকার মতো মিছিলে গিয়ে ভুল কাজ করে ফেলেছে। পরবর্তীতে পুলিশ এসে অস্ত্রটি জব্দ করতে চাইলে সে তার অস্ত্র ও লাইসেন্স জমা দিয়ে দেয়।
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, ‘খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে অস্ত্রটি জব্দ করেছে পুলিশ। লাইসেন্সধারী কেউ প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করতে পারবে না। অস্ত্রটির লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করে আমরা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে লিখিত দেবো।’