
আমার নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ট্যাংকলরির ট্যাংকির ভিতর থেকে ফার্নেস অয়েল সংগ্রহ করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকার কারণে আবু সাঈদ (২২) নামে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত সাঈদের ছোটভাই এবং তার বাবা আহত হয়েছে।
সোমবার (২৭ নভেম্বর) সকালে আদমজী এসও রোড এলাকায় মেঘনা ডিপোর পাশে অবস্থিত একটি বালুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আবু সাঈদ ওই এলাকার নাজির হোসেনের ছেলে। সে এসও রোড এলাকায় ইসমাঈলের তেলের গাড়ির ড্রাইভার হিসেবে কাজ করতেন। এ ঘটনায় আহত হোন নিহতের আপন ছোট ভাই ফাহিম (১২) এবং তার বাবা নাজির হোসেন (৪৫)।
নিহতের পরিবারসূত্রে জানা যায়, ওই ট্যাংকলরির মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন তাদের রোববার রাতে গাড়ি থেকে অবশিষ্ট ফার্নেস তেল সংগ্রহ করে গাড়িটি পরিষ্কার করে দিতে বলে। তার কথায় ফাহিম গাড়ি পরিষ্কার করতে গিয়ে ট্যাংকলরীর ট্যাংকির হাউজে পড়ে যান। ফাহিমকে উদ্ধার করতে হাউজে নামেন তার বাবা নাজির। ফাহিমকে উদ্ধারের সময় তার বাবা নাজিরও ট্যাংকিতে পরে গেলে বাবাকে বাঁচাতে বড় ছেলে সাঈদও ট্যাংকির হাউজে নামেন।
পরবর্তীতে তাদের দুজনেরই কোনো হদিস না মিললে এলাকাবাসী আহত অবস্থায় তাদের তিনজনকে উদ্ধার করে সুফিয়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। এসময় সাঈদের অবস্থা খারাপ দেখা গেলে তাকে নারায়ণগঞ্জ খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে ওখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক সাঈদকে মৃত ঘোষণা করেন।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম ডিপোর ইনচার্জ লুৎফর রহমান সময়ের আলোকে জানান, আমি বিষয়টি জানিনা আপনার কাছ থেকেই জানতে পারলাম। তবে এ ধরনের মৃত্যুর বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখজনক।
আমাদের ডিপোগুলোতে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ছাড়া অন্য কোন তেল ট্যাংকলরিতে লোড করিনা। এটি ফার্নেস অয়েল কালো তেল। এটি আমাদের আওতাভুক্ত নয়। ট্যাংকলরি রাখার পর্যাপ্ত যায়গা নেই বলে আমরা অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার পর ডিপোর পাশে একটি যায়গা পেয়েছি তা এখনো সম্পুর্ন হয়নি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে সিদ্ধিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, ট্যাংকলরির ট্যাংকির ভেতর গ্যাসের চাপ থাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে নিহতের বাবা নাজির হোসেন সুস্থ রয়েছেন। আর ফাহিমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।