নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নাকের ডগায় চানমারী বস্তির মাদকের বিশাল আস্তানার শত শত বস্তিঘরে সারাদিন রাত প্রকাশ্যে গাজা, ইয়ারা, ফেনসিডিল,হিরোইন ও ইঞ্জেকশনসহ সকল ধরণের মাদক বিক্রি চলতো । সেই মাদকের পুরো আস্তানা ২০২১ সালের ২৯ জুলাই বুলডেজার দিয়ে গুটিয়ে দেয় পুলিশ।
এমন উচ্ছেদের পর ফের এই চাঁনমারী এলাকায় কোন বস্তিঘর না থাকলেও সারাদিন রাত সেই পুরানো কায়দায় মাদক সম্রাজ্ঞী রুমীর মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যেই ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড়ের উপর দায়িয়ে হাকডাক দিয়ে অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। আর এই মাদক ব্যবসায়ীদের নেপথ্যে থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ শেল্টার দিয়ে আসছে কিছু অসাধু প্রভাবশালী ব্যাক্তিবর্গ।
নারায়নগঞ্জ জেলার শহর ও শহরতলীর মাদক ব্যবসায়ী ফতুল্লা চাঁনমারী এলাকার মাদক সম্রাট মোক্কার মেয়ে ও মাদক ব্যবসায়ী খাদেমের একমাত্র বোন এক ডজনের ও বেশী মাদক মামলার আসামী রুমী আক্তার (৩৫) বেশ দাপটের সাথে চাঁনমারী এলাকায় মদ,গাঁজা,ইয়াবা ও হেরোইনের মত ভয়ংকর মাদক বিক্রি করে বেড়াচ্ছে।
মাদক সম্রাজ্ঞী রুমী আক্তার ওরফে রুমী জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার বিরপাকের দেহ গ্রামের মুক্কার মেয়ে ও ফতুল্লা থানার তল্লা সবুজ বাগ এলাকার ভাড়াটিয়া লেবু মিয়ার স্ত্রী।
চাঁনমারি এলাকার মহিলা সন্ত্রাসী ও মাদক সম্রাজ্ঞী রুমী’র মাদক ব্যবসা এখন আগের থেকে আরো জমজমাট এমনকি ব্যবসার কৌশলও পরিবর্তন করেছেন এই মাদক সম্রাজ্ঞী। কিছুদিন আগে চাঁনমারিকে মাদকমুক্ত করার জন্য জেলা পুলিশের উদ্যোগে বস্তি উচ্ছেদের পর বুড়ির দোকান, তল্লা সবুজবাগ, মডেল গার্মেন্টস এলাকা এবং এর আশেপাশের অঞ্চলগুলোতে মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলে মাদক সম্রাজ্ঞী রুমী। তল্লা মডেল গার্মেন্টস এলাকায় জামাই বাজার এবং সবুজবাগ এলাকায় অনেকটা প্রাকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে রুমীর মাদক।
রুমীর বাবা মাদক ব্যবসায়ী মোক্কা মিয়া চানমারী এলাকায় একসময়ে বেশ দাপটের সাথে মাদক ব্যবসায় করে ৫-৬ টা মাইক্রো বাস এবং জামালপুরে বিরাট অট্টালিকা বাড়ি নির্মান করেন।পরে মোক্কা মিয়া পুলিশের হাতে ধরা খাওয়ার পর তার বড় পুত্র খাদেম আলী এই মাদক সাম্রাজ্য গুছিয়ে নেন।বেশ কয়েক বছর খাদেম আলী ব্যবসা করার পর একসময় তার বোন রুমী আক্তার ও এই ব্যবসায় বেছে নেন।
থানাসূত্রে জানা যায় ২০২২ সালের ২৬মে (বৃহস্পতিবার) মাদক সম্রাজ্ঞী রুমীকে ফতুল্লা থানার তল্লা সবুজবাগস্থ সুমনের বাড়ীর ৪র্থ তলার এফ-৪০৪ নং ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় তার নিকট থেকে ত্রিশ গ্রাম (৩০০ পুরিয়া)হেরোইন সহ মাদক বিক্রির ১৯ হাজার ৭ শত টাকা উদ্ধার করে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
জানা গেছে, চাঁনমারী বস্তিতে দিনে-রাতে মাদকসেবীদের ভিড় আর আনাগোনা দেখে এলাকাটিকে মাদকের ‘হাট’ বলছেন স্থানীয়রা। পূর্বের ন্যায় বর্তমানেও প্রকাশ্যে শিষ দিয়ে বিক্রি হচ্ছে মাদক সম্রাজ্ঞী রুমীর মাদক। দীর্ঘদিন ধরেই চাঁনমারী বস্তি অপরাধমূলক কর্মকান্ডের স্থান হিসেবে কুখ্যাত।
স্থানীয়দের দাবি চাঁনমারীর সাথে ডিবি অফিস ও এসপি অফিস থাকা সত্ত্বেও কিভাবে এই গোটা পরিবারের সদস্য এইরকম দাপটের সাথে মাদক ব্যবসা করে চলেছে তা কারোই বোধগম্য নয়।তারা একটাই দাবি করেন যাতে প্রশাসন এই পুরো পরিবারের উপর যথাযথ ব্যবস্থা নেন।